Sustain Humanity


Tuesday, July 21, 2015

আমরা ভালো সেজে আছি মেহেদী হাসান

আমরা ভালো সেজে আছি

মেহেদী হাসান

২২ জুলাই ২০১৫,বুধবার, ০০:০০

ভালো নেই প্রাথমিক শিÿকেরা-১

ভালো নেই প্রাথমিক শিÿকেরা-১

ভালো আছি বললে ভুল হবে। আমরা ভালো সেজে আছি। একে ভালো থাকা বলা যায় না। ভালোর অভিনয় করছি আমরা। খুবই বাজে অবস্থায় আছি। এত খারাপ যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

কেমন আছেন জানতে চাইলে ÿোভের সাথে কথাগুলো বললেন রাজধানীর একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিÿিকা।
স্কুলের অফিস কÿে বসে ুব্ধ এ শিÿক বলেন, কাজের চাপে আমরা কাসে থাকতে পারি না ভাই। কাজের শেষ নেই। সব জরিপকাজ আমাদের করতে হয়। কাজের চাপে আমরা দিশেহারা। অথচ বেতন কম। বর্তমানে অনেক উচ্চশিÿিত মেধাবী ছেলেমেয়ে প্রাইমারি স্কুলে শিÿকতায় আসছেন। কিন্তু তাদের কোনো মর্যাদা নেই এখানে। প্রধান শিÿকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে, কিন্তু বেতন বাড়েনি। বেশির ভাগ ÿেত্রে থানা/উপজেলা শিÿা অফিসার আমাদের সহায়তা করে না। বদলি, ছুটি, বিভিন্ন বিষয়ে শিÿকদের নানাভাবে নাজেহাল হতে হয় তাদের কাছে।
প্রাইমারি নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। কিছু দিন আগে সব শিÿকের তথ্য চেয়ে ফরম পূরণ করে দিতে বলেছে। এটা করতে গিয়ে জান বের হয়ে যাচ্ছে আমাদের। হার্ডকপি, সফটকপি সব দিতে হবে। শিÿকদের যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। শিÿকদের ছেলেমেয়েদের জন্ম তারিখসহ হেন কোনো তথ্য বাদ নেই তাতে। স্কুলের যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মায়ের আইডিকার্ডের নম্বরসহ তথ্য দিতে বলেছে। এত তথ্য দিয়ে কী হবে জানতে চাইলে উপজেলা শিÿা অফিসার বলেন, গবেষণায় লাগবে। নির্ভয়ে সব তথ্য দিন।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ফরম পূরণ করার পর সাবমিট করতে জান বের হয়ে যায়, বলে চললেন প্রধান শিÿিকা। সাবমিট করতে দিনের পর দিন পার হয়ে যায় কিন্তু তারপরও নেয় না। কারণ জ্যাম। এভাবে কারো কারো বছর পার হয়ে যাচ্ছে। আমি এক বছর ধরে চেষ্টা করছি তারপরও সাবমিট করা যায়নি।
এ শিÿিকা বলেন, আমরা আমাদের তালিকাভুক্ত ছুটিও ভোগ করতে পারি না। সব জাতীয় দিবসে বন্ধের দিনেও স্কুলে বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হয় আমাদের। কেন, এসব দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আগের দিন আলোচনা করা যায় না স্কুলে?
প্রাইমারি স্কুলের শিÿকদের সমস্যা জানার জন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন শিÿকের সাথে কথা বললে তাদের কথায় মিল পাওয়া গেল রাজধানীর ুব্ধ এ প্রধান শিÿিকার অভিযোগের সাথে। সবার কথা প্রায় একই। কাজ অনেক, আর বেতন খুব কম। তারপর আছে নানা ধরনের হয়রানি।
স্কুলে ফুটবল টুর্নামেন্ট বিষয়ে অনেক শিÿক ÿোভের সাথে জানিয়েছেন এ খেলা নিয়ে শিÿকদের হয়রানির শেষ নেই। রাজধানীর এক শিÿিকা জানান, খেলার জন্য কোনো খরচ দেয়া হয়নি এবার। কোমলমতি শিশুদের কোনো কিছু হলে তার দায়িত্ব কে নেবে। কোনো ছাত্রের কোনো সমস্যা হলে তো আমাদের চাকরি থাকবে না। খেলার জন্য ছাত্রদের বাছাই করা, তাদের নিয়ে সারা দিন মাঠে থাকা, দূরে খেলা হলে সেখানে যাওয়া-আসা নিয়ে হয়রানির শেষ নেই। 
শিÿকদের অভিযোগÑ খেলা নিয়ে এখন যেসব পÿপাতিত্ব হচ্ছে তাতে এটা আর খেলার মধ্যে নেই। থানাপর্যায় পর্যন্ত নিয়মকানুন ঠিক থাকে। এরপর জেলাপর্যায়ে গেলেই পÿপাতিত্ব শুরু হয়। এতে ছেলেমেয়েদের মন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খেলা হল আনন্দের জন্য। কিন্তু এখন এটা যে পর্যায়ে গেছে তাতে আর কোনো আনন্দ নেই। তিক্ততা সৃষ্টি হচ্ছে।
জাতীয় শিÿানীতি ২০১০ এ বলা হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকদের ছুটির সময় ছাড়া শিাসংক্রান্ত কাজের বাইরে অন্যান্য কাজে সম্পৃক্ত করা হবে না। কিন্তু শিÿকদের অভিযোগ, তাদের দিয়ে হেন কাজ নেই যা করানো হয় না।
নির্বাচনের আগে ভোটার লিস্ট প্রণয়ন, স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন, আদমশুমারি, জাতীয় শিশু জরিপের কাজ করানো হয় প্রাইমারি স্কুলের শিÿকদের দিয়ে। প্রতি বছর একটি করে শিশু জরিপ করানো হয় শিÿকদের মাধ্যমে। স্কুল এরিয়ার প্রতিটি বাড়ি গিয়ে সব শিশুর তথ্য সংগ্রহ করতে হয় তাদের। এ ছাড়া এলাকাভেদে কৃষিশুমারি, জেলেশুমারিরও কাজ হয়। এর পাশাপাশি জাতীয় টিকা দিবস, স্যানিটেশন ক্যাম্পেইন, পরিবেশ দূষণ রোধ, শিশু পাচার রোধে উপজেলাপর্যায়ে সরকারিভাবে আয়োজিত প্রচারণায় অংশ নিতে হয় শিÿকদের। তিন মাস পরপর কৃমিনাশক বড়ি শিÿার্থীদের মধ্যে বিতরণ করানো হয় শিÿকদের দিয়ে।
বিস্কুট ও খাদ্য বিতরণ, উপবৃত্তির হিসাব রাখা, বছরের শুরুতে বই বিতরণের জন্য মাস্টাররোল তৈরি করা, বই বিতরণের ছবি তুলে সংরÿণের ব্যবস্থা করা, বইয়ের চাহিদাপত্র সরকারের কাছে জমা দেয়া ছাড়া বই বিতরণের সময় আবার শিÿা অফিসে গিয়ে ডেপুটেশনে কাজ করতে হয় অনেককে। এসব করতে গিয়ে ঠিকমতো পাঠদান করতে পারছেন না শিÿকেরা। বিশেষ করে প্রধান শিÿকেরা কাস নেয়ার সময় পান খুব কম। শিÿকেরা জানান, প্রায় স্কুলেই বিশেষ করে গ্রামে রয়েছে শিÿক স্বল্পতা। অনেক স্কুলে শিÿকদের দু'জনের কাজ করতে হয় একজনকে।
মাসে একবার ম্যানেজিং কমিটির সভা ডাকতে হয়। অনেক শিÿক জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা ঠিকমতো সভায় আসেন না; তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাÿর আনতে হয়। অভিভাবকদের নিয়ে তিন মাসে একবার সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ সভা করতে হয়। এসব মিটিংয়ের নোটিশ তৈরি ও তা পাঠানো, এজেন্ডা তৈরি, রেজুলেশন তৈরি, শিÿকদের বেতন তোলার জন্য প্রতি মাসে মাসকাবারা ফরম দাখিল করতে হয়। এর পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রæয়ারি সরকারি বন্ধ হলেও শিÿকদের স্কুলে উপস্থিত থেকে এসব দিবস উপলÿে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়। আগে থেকেই তার প্রস্তুতি নিতে হয়। প্রতি মাসে শিÿা অফিস থেকে নানা ধরনের তথ্য চাওয়া হয় শিÿকদের কাছে। এর সাথে রয়েছে বিভিন্ন প্রশিÿণমূলক কার্যক্রম, জেলা ও উপজেলা শিÿা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক এবং উপজেলা ও জেলা থেকে মাঝে মধ্যে কর্মকর্তাদের সফর সামাল দেয়া। 
শিÿকদের মতে, চাকরির ÿেত্রে তাদের মূলকাজ হওয়া উচিত শ্রেণিকÿে শিÿার্থীদের পাঠদান। শিÿকতার পাশাপাশি তাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন রয়েছে। পরিবারেও তাদের সময় দিতে হয়। সন্তান লালনপালন ও তাদের পড়াশোনার দেখভাল করতে হয়। কিন্তু শিÿকতাকেন্দ্রিক এবং তার বাইরেও তাদের দিয়ে আরো যেসব কাজ করানো হয় তাতে অনেকের পারিবারিক জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব স্কুলে শিÿক সঙ্কট রয়েছে সেখানে অবস্থা আরো খারাপ। সব মিলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণিকÿে পাঠদান কার্যক্রম। - See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/39908#sthash.iyG8yWCb.dpuf
--
Pl see my blogs;


Feel free -- and I request you -- to forward this newsletter to your lists and friends!

No comments:

Post a Comment