Sustain Humanity


Tuesday, October 18, 2016

সারা রাত ভর নাম গান করার পর ভোরে সমগ্র গ্রাম পরিক্রমা

লেখক : ড .বিরাট বৈরাগ্য
আশ্বিন মাসের শেষ রাতকে gassi রাত বলে এই রাতের শেষে এখনও আমাদের গ্রামে হাতে গড়া মাটির প্রদীপ মহিলারা জ্বালান .আগের দিন এঁটেল মাটি দিয়ে মেয়েরা কাঁচা মাটির প্রদীপ তৈরী করে রাখত .প্রতি বাড়িতে মাটির পিদ্দূম বানানোর উত্সাহ দেখার মতো .রাত্রে পিঠে banato নানা রকমের .তবে দুধ রসে ভেজানো ভেজানো পিঠে আমার ভাল. লাগত .রাতে আমরা ছাত্ররা ঘুমাতাম না .আমাদের বলা হতো এই রাতে সব বই পড়তে হয় তাহলে সব পড়া মনে থাকবে .
ভোর বেলায় বা শেষ রাত্রে গোয়ালের গরু বাছুর নদীতে বা বিলে নিয়ে স্নান করিয়ে এনে এদের শিং এ তেল সিঁদুর দেয়া হতো কৃষি ভিত্তিক বাংলায় কৃষি কাজে গরুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ সেজন্য ওই দিনটি গরুকে বিশেষ ভাবে যত্ন করা হতো .উঠান ঘর বাড়ি লেপে সাফ সুরত করে রাখা হতো উঠোনের মাঝখানে আলপনা দেয়া হতো ,গরু গুলকে স্নান করানোর পরে উঠোনের মাঝখানে এনে তেল সিঁদুর দিয়ে সারা শরীরে চালের গুঁড়ির ছাপ দেয়া হতো .kartick মাসে চাষের সময় গরুর জ্বর হতো বা অসুখ হতো যাতে গরুর জ্বর না হয় সে জন্য গরুকে একধরনের ভেষজ khaoyano হতো জঙ্গল থেকে আনা হতো গুল্ম জতীয় গাছ .এই গুল্ম এর নাম "আমগুরুজ".এই আম gurujer সঙ্গে এক টুকরো চাল কুমড়ো ,একটি পুঁটি মাছ ,চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরী বিশেষ পিঠে এই বিশেষ পিঠে শুধুমাত্র গরুর জন্য্ তৈরি হত .এগুলো একসঙ্গে করে গরুর মুখের মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেয়া হতো .
এই gassir রাত জেগে সকলে সকালে নিম পাতা ও হলুদ বাটা গায়ে মেখে স্নান করে আসত .স্নানের পর সকলে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি কাজল পরে .এরপর রাতের তৈরি পিঠে সকলে আনন্দের সঙ্গে খায় .প্রতিটি বাড়িতেই এই gassir পিঠে তৈরি হতো .বিশেষ করে vijene পিঠের কথা ভুলতে পারিনা .
Matuara সারা রাত ভর নাম গান করার পর ভোরে সমগ্র গ্রাম পরিক্রমা করে matua কীর্তনের মাধ্যমে .
Gassir ভোর রাতে বালক বালিকারা বাড়ির কুলো নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে পেটাতে পেটাতে যায় আমি ছোট বেলায় এই দিনটার জন্য্ অপেক্ষা করতাম .রাত জেগে থাকতামকখন কুলো পেটানোর সময় হবে .এই kulo কেন পেটানো হয় .আমাদের জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস kulo পিটিয়ে মশা মাছি র প্রাদুর্ভাব কমান যাবে .প্রতিটি ব্রত ই মানুষের মঙ্গলের জন্য্ করা হয় .কৃষিভিত্তিকনমঃ শূদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে এই gassi ব্রতের প্রভাব অপরিসীম .আমার বাড়ি নদীয়া জেলার কৃষ্ণ গঞ্জ থানার অধীন majhdia স্টেশন এর সন্নিকটে নমঃ শূদ্র অধ্যুষিত অঞ্চলে গ্রাম ধরমপুর .এই gassiতে kulo পেটানোর বালক বালিকারা পেটানোর তালে তালে গানের সুরে বলত purota লিখতে parbo না এখনকার দৃষ্টিতে অশ্লীল বলে .কিন্তু গ্রামে আমরা দেখতাম গ্রামের কেউ অশ্লীল বলছে না .গানটি
নিম্নরূপ "মশা মশা কান খলসা কানে বাঁধা দড়ি ,সকল মশা খেদায় দেব অমুকের মার বাড়ি অমুকের মার .......খান খুঁচে খুঁচে খা "
লোক সংস্কৃতিতে দেখা যায় এই শব্দ গুলি লোক মানুষ সমাজের মঙ্গলার্থে ব্যবহার করেছে .