Sustain Humanity


Friday, October 14, 2016

ভারতবর্ষে প্রতি দশ জনের মধ্যে অন্তত সাত জন মহিলা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হয়। অদ্ভুত ভাবে আজই পেপারে NCRB ২০১৫ এর একটি রিপোর্টও বের হয়েছে, মেয়েদের ওপর যৌন হিংসার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের স্থান সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয়।

Sayan
ভারতবর্ষে প্রতি দশ জনের মধ্যে অন্তত সাত জন মহিলা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হয়। অদ্ভুত ভাবে আজই পেপারে NCRB ২০১৫ এর একটি রিপোর্টও বের হয়েছে, মেয়েদের ওপর যৌন হিংসার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের স্থান সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয়। এই দুটো পরিসংখ্যান যে মুহূর্তে জ্বলজ্বল করছে আমাদের চোখের সামনে ঠিক তখনই গতকালের খবরটিও ভেসে উঠে একই ধারাকে প্রমাণ করছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তনী মিতা দশমীর রাত্রে দুইদিন আগে মারা গেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হাতে। যদিও প্রশাসন তার স্বভাবসিদ্ধ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রভাবশালী শ্বশুরবাড়ির কথাতেই পুলিশ বলেছে মিতা আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু মৃতদেহের নাকে মুখে গলায় ঘাড়ে যখন রক্তের ছোপে ভেসে গেছে, যখন কালো দাগ হয়ে আছে ঘাড়ের দুদিকে, তখনও দাঁড়িয়ে কতবড়ো তাঁবেদার হলে খুন নয় আত্মহত্যা বলে চালানো যায়, তা বুঝতে কি চুলচেরা তদন্ত লাগে! লাগে না। এটা আত্মহত্যা নয়, খুনই... না শুধু রক্তের দাগ নয়, তার প্রমাণ আরও অসংখ্য, মেয়েটির বরের ফেরার হয়ে যাওয়া শ্বশুর বাড়ির লোকের উদাসীনতা সবকিছুই তাইই প্রমাণ করে।
মিতাকে আমিও চিনি না, না চিনলেই ভালো হতো, কারণ চেনার উপায়টা খুব খারাপ হল। খবরের কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় মৃতমুখ দেখে চেনার প্রয়োজন ছিল না কোনও। হিসেব করে দেখলাম আমারই সাথে পাস আউট হয়েছে সে। হয়তো কলেজের ক্যান্টিনে বা গ্রীনজোনেও দেখেছি অজান্তেই। শুধুই খারাপ লাগছে না, রাগও হচ্ছে ভীষণ। দিনের পর দিন এরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটছে, নড়ে চড়ে উঠছে না আমাদের ঘিঞ্জি শহর। ঢাকের বাদ্যির আড়ালেই হারিয়ে যাচ্ছে আর্তিগুলো।
আজও যদি না ভাবি, তাহলে বুঝবো কলরবের যাদবপুর আমাদের শেখায়নি কিছু। আজ বাদে কাল আমাদের মধ্যেই আরও কেউ এইভাবে জমাট রক্ত মুখে কাল মারা যাবে, সেদিনও কিচ্ছু বদলাবে না। আর মিতার ঘটনাটা আরও পাঁচটা ঘটনার মতোই কেস ফাইলেই রয়ে যাবে। তাই আসুন না, একটু এগিয়ে দেখি কিছু অন্তত করা যায় কি না যাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না দেখতে হয়।
lekha :- Srirupa Manna