Sustain Humanity


Friday, October 21, 2016

যুদ্ধ শুরু হল,শেষ হল,নায়ক নিহত,রাজ্য শ্মশান প্রতি গল্প বিশ্বরূপ, মাথামুণ্ডু না বুঝেই কাঁদি, হায়,অবিদ্যায় ঢাকা থাকল ঋজু পাঠ--যেন তারা হিমের কুটুম ওই অস্বচ্ছ মানুষজন, গাছপালা, রণক্ষেত্র ---কেন,এর বেশি,সবটা বুঝিনি?"

Sumana Sanyal er lekha
যুদ্ধ শুরু হল,শেষ হল,নায়ক নিহত,রাজ্য শ্মশান
প্রতি গল্প বিশ্বরূপ, মাথামুণ্ডু না বুঝেই কাঁদি,
হায়,অবিদ্যায় ঢাকা থাকল ঋজু পাঠ--যেন তারা
হিমের কুটুম ওই অস্বচ্ছ মানুষজন, গাছপালা,
রণক্ষেত্র ---কেন,এর বেশি,সবটা বুঝিনি?"
(ভূমিকা /বক্সীগঞ্জে পদ্মাপারে/উৎপলকুমার বসু)
আজ চার পাঁচদিন আমি এই শহরের সেইসব রাস্তায় সেইসব দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটেছি,সেইসব গলি আর বারবার দেখা আমার প্রিয় সিনেমা,রসোমন এর মতোই দেখেছি একটাই গল্প কিভাবে বিভিন্নজনের কথনভঙ্গীতে,বিবিধ ইশারায় কতো না ভিন্নরূপে ঠিকরে বাইরে পাঠায় তার নানাবর্ণের ছটা। গল্প একটাই,রঙ অনেক।কিন্তু ফিল্মে তো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকে। নিতান্ত এক বলিউডি ছবিতে একটা চরিত্র একবার তার উকিলকে বলেছিল "যাদের কোনো সাক্ষী থাকে না,তারা কি নির্দোষ হতে পারেনা? এই ডায়ালগটা আমার মাঝেমাঝেই মনে পড়ে। কিন্তু যার অনেক সাক্ষী আছে?অথচ সময়কালে যার সেইসব সাক্ষীরা নীরব হয়ে আছে,অনেকেই উল্টো সুরে গেয়ে তাকে খাদের নীচে ঠেলে দিতে চাইছে,তার কি হবে? সে কিভাবে নিজেকে প্রমাণ করবে?
যেসব গল্পগুলো এই চার পাঁচদিন ধরে শুনছি,ফেসবুকে পড়ছি অনেকের মন্তব্যে,সেগুলো আসলে বড়ো একমাত্রিক। একঘেয়েও। সেই একটাই ক্যারেক্টার। সে-ই নায়ক আর সে-ই ভিলেন। তার এখনো প্রমাণহীন "গুরুতর অপরাধ" এর কথা আর পরিণাম। সমস্যা হোল,সেই লোকটা তো আসছেনা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে,যারা এই গল্পটা লিখেছ,তারা সেই সুযোগও তাকে দাওনি,ফলত: একপেশে গল্পের দায়ও তোমাদের।নানা রাস্তায়,চায়ের গুমটিতে,মুদী র দোকানে এরকম বিভিন্ন এঙ্গেলে চলে গেলেও বিষয়টা একই থাকছে। তাই তোমাদের গল্পে একটু স্বাদবদলের জন্যে দু'এক টুকরো জুড়ে দিলাম। তোমরা এগুলো সবই জানো,শুধু জুড়তে ভুলে গেছ।
হয়েছে কি,তোমাদের গল্পের এই ভিলেন,ঘটনাচক্রে আমার বাড়ির নিতান্ত কাছেই তার বসবাস। ধরতে গেলে একই এলাকায়। একটা সময়,মায়ের সঙ্গে যখন কালনা গেটের বাজারে যেতাম,প্রায়ই দেখা হোত। তখন তিনি আমার শহরের মিউনিসিপ্যালিটির ভাইস চেয়ারম্যান। আরও পরে চেয়ারম্যান হন। নিতান্ত সাদামাঠা বাজার,আমার কলেজের খোঁজ,বাবার কথার পরে আমার মা তাঁর মেয়ের কথা যেই না জানতে চাইতেন অমনি তাঁর মুখে হাজারবাতির আলো। আর সব সাধারণ বাবাদের মতোই,স্নেহপ্রবন।
একদিন,ঘোর বর্ষায়,মনে আছে,আমাদের পাশের রামকৃষ্ণ পল্লীর এক কাকু বাজারে পড়ে গিয়েছিলেন। তখন আপনাদের গল্পের এই ভিলেন কাদা থেকে একটা একটা করে কাকুর ব্যাগে তাঁর বাজারগুলো ভরে দিয়ে রিক্সা ডেকে কাকুকে তুলে দিলেন। না,তখন সামনে কোনো ইলেকশন ছিলনা।অহংকারী, দুর্বিনীত মানুষটার এই গুরুতর খারাপ দিকটার কথা বলতে তোমরা ভুলে গিয়েছিলে। আমি যোগ করে দিলাম।
"অর্ধেক লিখেছ মৃত্যু। বাকি অর্ধ সেতুর ওপারে..."
১৯৯৩ এর শীতার্ত রাত।টাউনহলে চলছে পৌর উৎসব। তখন সবেমাত্র আমার কবিতা ছাপার অক্ষরের স্পর্শ পেয়েছে। প্রভাতদার কবিতা পাক্ষিক আর বিজল্প। কবিবন্ধুরা এসেছে আমার শহরে। তো,মেলার মাঠে রাত ন'টায় যথেষ্ট কবিজনোচিত রেলা নিয়ে ঘুরছি। এমন সময় হঠাৎ সামনে তিনি। ভ্রূ কুঁচকে বললেন " এখনো বাড়ি যাওনি,বাবা কোথায়? সঙ্গে কে এসেছেন"
কবিকুল তো হতবাক! উঠতি কবির সঙ্গে মেলার মাঠে বাবা??আমতা আমতা করে বললাম "এদের সঙ্গে এসেছি এরা সব লেখেটেখে..." আমার কথা শেষই হোলনা,বজ্রগম্ভীর আর ঠান্ডা সেই গলা "বাড়ি যাও,রাত হয়েছে।"
আমার কবিত্বের বেলুনে শেষ আলপিন বেঁধানো হয়ে গেল।কিন্তু খুব রাগ হলেও সেদিন বাড়ি ফিরে এলাম। রাগ হয়েছিল,যেমন মা বাবার ওপরে হোত। তোমাদের গল্পের গুরুতর অপরাধী, নৈতিক অধঃপাত দোষে দুষ্ট এই লোকটাকে কেন যেন সেদিন বাড়ির একজন দায়িত্ববান অভিভাবকের মতোই মনে হয়েছিল। আর সেদিনও কোনো ইলেকশন ছিলনা। দেখো,এই এতো রাত্তিরে ফেসবুক আমাকে জিজ্ঞেস করছে আমার মনে কি আছে,তাই লিখছি আমার মনে কি আছে আর তোমাদের অসমাপ্ত গল্পেও জুড়ে দিচ্ছি দু এক টুকরো মনোলগ এবং আবারও মনে পড়ছে উৎপল বসু:
"জেগে উঠব ফলের খামারে--আপেল,আঙুর ক্ষেতে।
ডেকে ডেকে সকলকে প্রশ্ন করব কেন শুধু
সত্যেরই জয় হবে,মিথ্যার নয়?
এই দেশে ও-প্রশ্নের জবাব পাবো না।
সেরকম মনে হচ্ছে(মীনযুদ্ধ)"