Sustain Humanity


Thursday, June 9, 2016

Students All India Convention in Kolkata.কথোপকথনে ছাত্র-আন্দোলনঃ নতুনের জন্ম?? বক্তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইউনিভার্সিটি থেকে আসা আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। এই বৃহস্পতিবার, ৯ তারিখ, বেলা ৪-টে থেকে। ভারত সভা হল। দেখা হচ্ছে। বন্ধুদের জানান। পোস্টটি শেরার করে খবরটি ছড়িয়ে দিন।

কথোপকথনে ছাত্র-আন্দোলনঃ নতুনের জন্ম??
বক্তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইউনিভার্সিটি থেকে আসা আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। 
এই বৃহস্পতিবার, ৯ তারিখ, বেলা ৪-টে থেকে।
ভারত সভা হল।
দেখা হচ্ছে। 
বন্ধুদের জানান। পোস্টটি শেরার করে খবরটি ছড়িয়ে দিন।

বন্ধু,
বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারতবর্ষের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলি ছাত্রী-ছাত্র-গবেষকদের নানা দাবীর আন্দোলনে উত্তাল। শিক্ষা-সংকোচন/বেসরকারীকরণ/ফি-বৃদ্ধি/গবেষণা-ভাতা বন্ধের মত শিক্ষাক্ষেত্রে নয়া-উদারবাদী নীতি প্রণয়নের বিরুদ্ধে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর রাষ্ট্রীয়-দলীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, লিঙ্গ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে, শিক্ষাক্ষেত্রে সার্বিক গেরুয়াকরণ ও ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে, জাত-বর্ণের ভেদ-ভাবের বিরুদ্ধে, নিপীড়িত জাতিসত্ত্বা ও ভাষাগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকারের দাবীতে, ব্যক্তি/সমষ্টির মতপ্রকাশ ও মতবিনিময়ের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে... এককথায় সামাজিক ন্যায়বিচার-সাম্য-স্বাধীনতার জন্য লাগাতার নানা ইস্যুতে ক্যাম্পাসগুলি উত্তাল হয়ে উঠছে মাঝেমধ্যেই। পশ্চিমবঙ্গে ব্যতিক্রমহীনভাবে এই সংক্রান্ত স্বতস্ফুর্ত জাগরণগুলি ঘটেছে দলীয়-পতাকাহীনভাবে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংগ্রামী দল/শক্তিরা দলীয়-পতাকা সরিয়ে রেখেই অংশ নিয়েছে এইসব লড়াইতে); এবং সামাজিক-রাজনৈতিক নানা মতের বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাবেশ ও লড়াকু ঐক্য দেখা গিয়েছে লড়াইগুলিতে। পশ্চিমবঙ্গ শুধু নয়, সারা ভারতবর্ষ জুড়েই স্বতস্ফুর্ত ছাত্রছাত্রী-যুব-জাগরণগুলিতে যেন বা এই বৈশিষ্ট্যই ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে আমাদের বিশেষভাবে মনে হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের সমাজ-প্রগতির জন্য নতুনভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক পর্যায়ের মধ্যেই ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গেও বর্তমান পর্যায়গুলি অতিবাহিত হচ্ছে। 
২০১৪-র সেপ্টেম্বরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে 'হোক কলরব' আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাকে আমরা যাদবপুরের ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে পড়তে দেখেছিলাম। অন্যভাবে বলা যায়, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ কলকাতার মহামিছিলে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তর জনসমাজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন ছাত্র-জাগরণের সাথে মিলিত হয়ে ভবিষ্যতের একপ্রকার দিক নির্দেশ রেখেছিল। যাদবপুর-সহ 'হোক কলরব'-এর আন্দোলনরত ছাত্রী-ছাত্রসমাজ আন্দোলনের জাড্যেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল পুণে ফিল্ম ইন্সটিটিউটের আন্দোলনরত বন্ধুদের দিকে। হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের দলিত ছাত্র রহিথ ভেমুলার আত্মহত্যা (বলা উচিত, উচ্চবর্ণবাদী-আধিপত্যবাদী প্রতিষ্ঠানের হাতে একজন দলিতের হত্যা) জাত-বর্ণব্যবস্থার বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রী-ছাত্রসমাজের মধ্যে জমে থাকা ঘৃণার আগুণে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। ভারতবর্ষের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে হায়দ্রাবাদ-বাঙ্গালোর-মুম্বই-দিল্লী-কোলকাতায় ছাত্রছাত্রীরা প্রকাশ্য রাস্তায় বেরিয়ে এসে সক্রিয় অনশনে বসেছেন, মিছিল-বিক্ষোভে আগুন জ্বালিয়েছেন সামাজিক ন্যায় বিচারর দাবীতে, ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন জাত-বর্ণের ভেদ-ভাবহীন এক নতুন ভারতবর্ষের জন্য।
কেন্দ্রীয় শাসক দল তাদের সামাজিক-আদর্শনৈতিক আধার রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সাথে মিলিতভাবে প্রশাসন ও কর্পোরেট মিডিয়ার একাংশকে ব্যবহার করে দিল্লীর জওহরলাল নেহ্‌রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ছাত্রদের 'দেশদ্রোহী' তকমা দিয়ে যে ঘৃণা-প্রচার শুরু করেছিল, দেশজুড়ে তা এখনো অব্যাহত। স্বভাবতই সংঘ-পরিবারের চিহ্নিত 'দেশদ্রোহী ক্যাম্পাস'-এর লিস্টে তার প্রতিবাদী ঐতিহ্যের কারণেই নাম লেখাতে পেরেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রকাশ্য সভায় ব্যবহৃত হত না এমন অকথ্য ভাষায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি যাদবপুরের ছাত্রীদের 'মৌখিক শ্লীলতাহানি' করছেন এবং যাদবপুরের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে দেখে নেবার হুমকি দিচ্ছেন, কখনো রাস্তায় ফেলে পেটানোর কথাও প্রকাশ্যে বলছেন। তাঁর প্ররোচনায় সঙ্ঘীবাহিনী যাদবপুরে সন্ত্রাসী অভিযান চালিয়েছে এবং প্রতিহত হয়েছে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের প্রতিরোধী ঐক্যের কাছে। পাড়ায় পাড়ায় মিথ্যা গল্প ছড়িয়ে 'যাদবপুর'-এর বিরুদ্ধে সামাজিক স্তরে হেট-ক্যাম্পেন চালিয়ে চলেছে আর এস এস-এর ছদ্মবেশী ক্যাডার বাহিনী। 
হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়েও রোহিথের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত উপাচার্য আপ্পারাওকে ফিরিয়ে স্বপদে বহাল করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ জানালে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর রাষ্ট্রীয়/দলীয়-সন্ত্রাস নামিয়ে আনা হয়েছে। এলাহাবাদ থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, বেনারস থেকে লক্ষ্ণৌ... দেশের উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে গেরুয়া গেস্টাপোদের কর্পোরেট-সহায়ক, আগ্রাসী পিতৃতান্ত্রিক, মনুবাদী, উগ্র-জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র অভিযান বিশেষভাবে টার্গেট করেছে দেশজুড়ে উদীয়মান সম্ভবনাময় লড়াকু তরুণ প্রজন্মকে।
ছাত্র-যুব-তরুণ প্রজন্মকে সংঘ-পরিবারের অতি-দক্ষিণপন্থী উগ্র হিন্দুত্বের আখ্যান ও ফ্যাসিস্ট আগ্রাসনে সামিল করার রাষ্ট্রীয়-দলীয়-সামাজিক অভিযানের বিপরীতে উন্মেষ-হতে-থাকা নতুন ছাত্র-যুব-তারুণ্যের ক্রম-জাগরণের সাথে মিলে যেতে চাইছে নানা রাজ্যে ভোটসর্বস্ব দল/জোট-চালিত সরকার ও তাদের তাঁবেদার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বতস্ফুর্ত ছাত্র-আন্দোলনগুলি। পন্ডিচেরী থেকে কেরালা, পাঞ্জাব থেকে বিহার... কেউই এর বাইরে নয়। আমাদের রাজ্যেও বর্ধমান থেকে বিশ্বভারতী, বারাসাত থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ/সরকার বিরোধী সাম্প্রতিক ছাত্র-আন্দোলনগুলিও অন্তর্বস্তুতে একই সম্ভাবনার বাহক। 
এরকম একটি পরিস্থিতিতে আমরা, নিম্ন-স্বাক্ষরকারীরা, আয়োজন করছি একটি আলোচনাসভা "INTERACTING STUDENTS' MOVEMENT: EMERGING NEW?"।
মুখ্য বক্তা হিসাবে থাকছেন— হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, এফ টি আই আই (পুণা), পন্ডিচেরী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান, বিশ্বভারতী, কলকাতা ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা মতাবলম্বী সংগ্রামী পড়ুয়া, গবেষক ও সংগঠকরা। 
আলোচনাসভার স্থানঃ ভারত সভা হল (কলকাতা)।
সময়ঃ ৯ই জুন, ২০১৬ (বৃহস্পতিবার); বিকেল ৪-৩০ থেকে রাত্রি ৮-৩০ পর্যন্ত।
আশা রাখি, আপনি/আপনার সংগঠন/সমষ্টি/যৌথ এই আলোচনাসভায় উপস্থিত হয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধমে আমাদের আয়োজনকে ফলপ্রসূ করে তুলতে সাহায্য করবেন। বলা বাহুল্য, এই আলোচনাসভার আয়োজন ও আমন্ত্রণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। 
এই আলোচনাসভার আহ্বান মুক্ত, ফলে যে-কেউই নিজের বিবেচনা মতো আলোচনাসভার মর্ম ও উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে যে-কাউকে আহ্বান জানাতে পারে।
সংগ্রামী অভিবাদনসহ
দেবর্ষি চক্রবর্তী (৯৬৭৪৪৩৭১৮৬)
বন্দনা মন্ডল (৭৬০২৪৮৯৪৮০)
শ্রমণ গুহ (৮৩৩৪৯৩৪৬৯০)

Ami Bohiragato Sayan's photo.

--
Pl see my blogs;


Feel free -- and I request you -- to forward this newsletter to your lists and friends!