Sustain Humanity


Sunday, September 11, 2016

বামুনের বিরুদ্ধে বামুনের সাথে জোট নিয়ে যারা মাথা ঘামাচ্ছে ঘামাক!

Chhandak Chatterjee
আজ তো JNU নিয়ে লাল সেলামের বন্যা বইবে, তবু এই ছবিটিই ভবিষ্যৎ এনাদের...
আমাদের দেশের বহুদলীয় ব্যবস্থায় ‘প্রধান শত্রু’ বিষয়টা একটু গোলমেলে । প্রধান শত্রুকে রুখতে জোট । যেমন ধরে নেওয়া যাক পাঞ্জাবে আকালি দল, বিজেপি,কংগ্রেস, ‘বাম’রা আছেন । প্রধান শত্রু আকালি কে রুখতে বিজেপি, কংগ্রেসের হাত ধরা হবে বা মহারাষ্ট্রে যদি পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় শিবসেনা কে রুখতে... তেমনই তো দেখলাম কেরলে । সেখানে সিপিএম কংগ্রেস মুখোমুখি আবার বাংলায় গলায় গলায় বন্ধু ।
AISA নিয়ে প্রচুর সমালোচনা থাকলেও তাদের SFI’র সাথে গুলিয়ে ফেলিনা । তারাও জোট করলেন একজন ব্রাহ্মন কে রুখতে ‘লালবামুন’দের সাথে । সিপিএম একটি বুর্জোয়া দল । জোতদার জমিদার পুঁজির স্বার্থবাহী ব্রাম্ভন্যবাদি পুরুষতান্ত্রিক দল ।
*রোহিতের যে ঘটনা নিয়ে অনেকেই সোচ্চার, অনেক আগেই পশ্চিমবঙ্গে চুনি কোটালের ঘটনা ঘটেছে । মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন পশ্চিমবঙ্গে জাত সংক্রান্ত কোন সমস্যাই নেই ।
*প্রগতিশীল পার্টি ৩৪বছর ধরে ক্ষমতায় থেকেও বুঝতে পারেনি, ২৭% মুসলমান পিছিয়ে থাকা, বেশীরভাগ দারিদ্রসীমার নীচে, সাচার কমিটি গঠন না হলে তারা হয়তো বরাবর অস্বীকার করে যেতেন ।
*নমশূদ্রদের একটা ব্যাপক অংশ কে ভিটের স্বপ্ন দেখিয়ে বছরের পর বছর ভোট নিয়েছেন, তাদের দণ্ডকারণ্য থেকে ডেকে নিয়ে এসে ঝুপড়ি বানাতে বলেছেন মরিচঝাপিতে, তারপর সেখানে আগুন লাগিয়ে মানুষ গুলো কে পুড়িয়ে মেরেছেন, যারা সেদিন রাতে ছোট নৌকা করে পালাতে চেষ্টা করেছেন, তাদের ট্রলারের তলায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা আগুনে বেঁচে গেছেন তাদের দেওয়া হয়েছে ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের মুখে ।
*৯০ বছর পেরিয়ে আসা বাম দল গুলো একজন শ্রমিক নেতাও সামনে তুলে আনেনি, যদিও কমিউনিস্ট পার্টি নাকি মূলত শ্রমিক শ্রেণীর পার্টি ।
*পলিটব্যুরো তে মহিলা সদস্যের অনুপাত কি ? দেখে তো মনে হয় বৃন্দা কারাত প্রকাশ কারাতের বৌ এবং ইয়েচুরির বৌঠান কোটায় চান্স পেয়েছেন, নাহলে একজনই মাত্র সর্বভারতীয় পার্টির মহিলা মুখ?
*নকশাল বাড়ির মতো সম্ভাবনাময় কৃষক বিক্ষোভকে প্রথমে গুলি করে, তারপর প্রথম সারির নেতাদের জেল বন্দী করে, চারু মজুমদারকে মেরে ফেলে কারা হাত রক্তে রাঙা করেছে ?
দিনেরপর দিন ছাত্রদের উপর গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমন করা, অনিতা দেওয়ানের যোনীতে টর্চ ঢুকিয়ে দেওয়া সব ভুলে যাবো প্রধান শত্রুর দোহাইয়ে । ভুলে যাবো সিঙ্গুর, নন্দিগ্রাম লালগড়ের চটি পুলিশ, ভুলে যাবো ভরত মণ্ডলের পেট থেকে বের হয়ে আসা নাড়িভুঁড়ি, ভুলে যাবো রাজকুমার ভুলকে একতলা ছাদে ফেলে লাঠি পেটা করতে করতে মেরে ফেলেছিলেন । ভুলে যাবো কুৎসিত সিনেমা মানসী মালিক ।
ভুলে যাবো Subhoshree দি যখন স্কটিশ চার্চ কলেজে ক্যাম্পেনে গেছিল সেদিন পেটে লাঠি মেরে বমি করিয়ে ছিলেন, ভুলে যাবো Soumo তখন ঝুঁটি বাঁধত, কতকতদিন মেডিক্যাল কলেজে ছুটে যেতে হয়েছে রক্তাক্ত অবস্থায়, ভুলে যাবো দেবজ্যোতি দার চোখ ফাটিয়ে দিয়েছিলেন, Madhurima Ghosh 'র বুকে লাথি মেরেছিলেন, দেবর্ষি'র মুখ ফাটিয়ে দিয়েছিল, Joy কে মাটিতে ফেলে পিটিয়েছিল । Agniswar দা কে মাথায় মেরে অজ্ঞান করে দিয়েছিল । প্রবীর দা কে ৭০ দিন হসপিটালে পাঠিয়েছিলেন । কত বলবো ? এর বিরুদ্ধে এসেফাই কতকগুলো নাম ভাসাবে, দেখাযাবে তারা মারা গেছেন কংগ্রেস’র হাতে । দুঃখ সেখানেই নিচু তলার সিপিএম কর্মীদের জন্য । কাদের সাথে গেলেন ? আজ তৃনমূল নিয়ে এতো কপচানি, আমিও বাঁচবো, একদিন প্রধান শত্রুর লজিকে এদের সাথেও জুটবে সিপিএম । যেভাবে বিহারে লালু নীতিস জুটে যায় ।
বামুনের বিরুদ্ধে বামুনের সাথে জোট নিয়ে যারা মাথা ঘামাচ্ছে ঘামাক, যদিও রেজাল্ট দেখে মনে হচ্ছে বড় বামুন প্রায় আড়াই ভাগ ভোট কম পেয়েছে, যদি একাও লড়তেন তাহলেও জিততেন, সেই জিত অনেক খুশীর হতো ।
খুশী হলাম রাহুল কে দেখে । দ্বিতীয় পজিশনে আছে । একজন রিক্সাচালকের ছেলে এবার প্রার্থী হয়েছিলেন । আমার বাড়ি এসেছেন, রাতে গল্প হয়েছে । সেমিনারে বক্তব্য রেখেছেন, ওর সাথে বহু প্রশ্নে পার্থক্য থাকলেও লড়েছে একজন দলিত সন্তান । বুকে উঠে নেচে দিয়েছে বর্ণবাদীদের ।
ব্রাম্ভন্যবাদ কা শিনে পর
পেরিয়ার ফুলে আম্বেদকর