Sustain Humanity


Tuesday, September 13, 2016

চন্ডাল-নমো-নমশূদ্র Saradindu Uddipan

চন্ডাল-নমো-নমশূদ্র 
Saradindu Uddipan 
চন্ডাল জাতির নমশূদ্র নামকরণ নিয়ে ইদানিং একটি বিতর্ক বেশ ঘোরাল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন আলোচনা সভা, সেমিনার এবং সোস্যাল মিডিয়াতে আলোচনাটি বেশ জায়গা করে নিচ্ছে ইদানীং। একদল গবেষক তাদের বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে জোরাল দাবী করে আসছেন যে ১৯১১ সালের লোকগণনার প্রতিবেদনে চন্ডাল জাতিকে যে ভাবে “নমশূদ্র” নামে একটি জাতে অবনমিত করে হিন্দু ধর্মের চতুর্বর্ণের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তা ব্রহ্মন্যবাদী চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়। নমশূদ্র নামের আড়ালে আসলে তারা একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র জাতিকে হিন্দু ধর্মের চতুর্বর্ণের বেড়ি পরিয়ে সমাজের একেবারে নিম্ন স্তরে নামিয়ে এনেছে এবং স্থায়ী ভাবে তাদের কপালে শূদ্র নামের কলঙ্ক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
অন্য আর একটি দলের ধারণা যে চন্ডাল পরিচয় আসলে একটি গালি। ব্রহ্মনেরা তাদের গ্রন্থগুলিতে এই প্রতিবাদী জাতিকে বিদ্বেষবশতঃ চন্ডাল নামে অভিহিত করেছে এবং এমন নিকৃষ্ট হিসেবে বর্ণনা করেছে যা এই জাতির জীবনযাপন আচার আচরণের সাথে একেবারেই মেলে না। এই চন্ডাল গালি আবার অপভ্রংশ হয়ে একেবারে “চাঁড়াল”এ পরিণত হয়েছে যা জাতির পক্ষে নাকি চরম অপমান। তারা মনে করেন গুরুচাঁদ ঠাকুর আন্দোলন করে এই জাতিকে চন্ডাল বা চাঁড়াল গালি থেকে মুক্ত করেছেন এবং নমশূদ্র নামে একটি নতুন জাত সৃষ্টি করে জাতিকে উচ্চ স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। নমশূদ্র জাতের সৃষ্টিতে যেহেতু গুরুচাঁদের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে সেই হেতু এই নামের বিরুদ্ধে কোন ধরণের সমালোচনা শোনার জন্য এই দলটি প্রস্তুত নয়।
এই বিবাদ এবং দ্বন্দ্ব পর্বে আর একটি দল আছেন যারা খানিকটা মধ্যপন্থী। এরা চন্ডাল নামের গুরুত্ব এবং ইতিহাসের সাথে পরিচিত। অন্য দিকে এঁরা যুক্তি দিয়ে দাবী করেন যে নমশূদ্র নাম নিয়ে এই জাতির আখেরে কোন উন্নতি হয় নি বরং নম’র সাথে শূদ্র যুক্ত হয়ে এই জাতির চরম অমর্যাদা হয়েছে। ভারতবর্ষে কোথাও এমন জাতি নেই যার সাথে সরাসরি “শূদ্র” শব্দটি যুক্ত। তাছাড়া শূদ্র শব্দটি একটি Sovereign Socialist Secular Democratic Republic দেশের নাগরিকের আত্তপরিচয়ের পক্ষে মোটেও সুখকর নয় বরং এই পরিচয় ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা, আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। তারা আরো বলেন যে, যদি একান্তই চন্ডাল নামে আপত্তি আসে তবে “শূদ্র” শব্দটি বাদ দিয়ে “নমো” বা “নম” শব্দটি গ্রহণ করা যেতে পারে।
আমারা বলতে চাই যে সব পক্ষের মতাম নিয়েই একটি আলোচনার সূত্রপাত করা দরকার। এতে হয়ত আমরা একটি আসন্ন বিবাদ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত কামনা করি।